ব্রেইন, নিউরন স্মৃতি এবং ক্যালকুলেটিভ মানসিকতার মধ্যে সংযোগগুলি সাধারণভাবে মানব জীবনের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল একটি পরিস্থিতি তৈরি করবেই।
কিন্তু ব্রেইন, নিউরন, নিউরনের স্মৃতি এবং মানুষের ক্যালকুলেটিভ মানসিকতার মধ্যে সংযোগগুলির মধ্যে অস্থির অবস্থায় বা মানসিক ভারসাম্যহীন অস্থিরতা দেখা দিলেই মস্তিস্কে একটি কম্পমান frequency তৈরি হয়। তখন এই কম্পন বা ফ্রিকোয়েন্সির রাসায়নিক প্রকৃতি কিরকম হতে পারে? সেটা কি মৃত্যুর কাছাকাছি কিছু? নাকি জীবনের কাছাকাছি কোন রাসায়নিক অবস্থান? এর উত্তরটি খুবই জটিল! অর্থাৎ আজ পর্যন্ত মানুষ নিজেরাই জানেনা এই উত্তরটা কি হবে না হবে! কিন্তু জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও একটি রাসায়নিক অবস্থান তো থাকে। সেই বিশেষ অবস্থানটিতে এই কম্পমান রাসায়নিক পরিস্থিতির ফলাফল কি হতে পারে আমরা কি তা জানি? এখন সেটা অনেকেই জানেন ! যেহেতু এটা স্থিতিশীল মন কিছুতেই নয় তাই স্থবির মানসিকতাও তৈরী হচ্ছে না এবং বেশ কম্পমান ফ্রিকোয়েন্সি থাকছেই। এটাই তৈরী রসায়ন। তাই এর ফলাফল হলো প্রস্থান অথবা দ্রুত স্থান ত্যাগ করা। কিংবা শান্ত ভাবে ভালো থাকার চেষ্টা করলে, তদবির করে হলেও যদি অন্য কোন গন্তব্যে চলে যাওয়া যায় এমন অবস্থা। কিন্তু জীবন মৃত্যুর ফায়সালা তো শেষ পর্যন্ত সব সময় সরল পথেই হয় না। কখনো কখনো জীবন মৃত্যুর মাঝামাঝি অবস্থানটি তা কে বেশ রহস্যজনক। রহস্যজনক মাঝামাঝি কোন একটি অবস্থান যদি থেকেই থাকবে জীবন ও মৃত্যুর মাঝামাঝি তখন এই রাসায়নিক অবস্থানের প্রকৃত রাসায়নিক ম্যাপ (Map?) বা এস্কেপিং রুটটি (Root?) কোথায় ঘটে। বা কোন কোন অবস্থায় (বা অপ্রকৃতস্থ অবস্থায়) শারীরিক স্থানান্তর গুলি কিভাবে কি প্রকারে হয়।
মানব মনের মধ্যে আশা, আকাঙ্ক্ষা এবং প্রলোভন এই তিনটি রসায়ন একই সমন্তরালেই অন্যান্য প্রাণী জগতের মধ্যে যেমনটা হয় এবং যেভাবে দেখা যায় ঠিক সেভাবেই এবং একই সাথে, একই রকম ভাবে মানুষের মধ্যেও কাজ করে।
মানুষ কখনোই আশা ছাড়া বাঁচতে পারে না, আকাঙ্ক্ষা ছাড়া চলতে পারবে না এবং প্রলোভনের ফাঁদে না পড়ে একটি শুদ্ধ জীবন যাপন করতে পারবে না। তাই আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত পার হতে থাকে এভাবেই হানান আশা আকাঙ্ক্ষাকে ঘিরে এবং প্রলোভনের ফাঁদ থেকে বাঁচতে। এবং আমরা সময়কে প্রতিটি মুহূর্ত, সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা, দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর, এবং যুগ ও শতাব্দীর ভিতর দিয়ে;এভাবে আমাদের সকল ব্যস্ততার চিত্রের মধ্য দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করতেও সক্ষম হই, হচ্ছি। সময়কে বিচার বিশ্লেষণ করতে গেলেও আবারও এসে পড়ে সেই মুহূর্ত, সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা, দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর, দশক এবং শতাব্দী পর্যন্ত চলতে থাকা এক অদৃশ্য হাত দিয়ে চালিত এক চক্র (দর্শন?)। তারপরেও থাকে ইতিহাসের মধ্যে মানুষের জানা অজানা প্রাচীন যুগের কাহিনীগুলি ও সময়ের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা আবশ্যকীয়তা। তাকেও ধরে রাখতে পারে শুধুমাত্র এভাবে একটি ভবিষ্যৎ ফলাফল লাভের আশায়। (যদি গুড়ে বালি না হয়)। এটা মানুষের মানসিকতার স্তর এবং মননশীলতার পর্যায়ে পড়ে। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ ভবিষ্যৎকে দেখতে পায় কিংবা পাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত বহাল থাকে তার মননশীলতা। কিংবা সৃষ্টিশীল মানুষেরা অতঃপর সমষ্টিগতভাবে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তথ্য এবং প্রযুক্তিকেও ঘুরেফিরে ব্যবহার করে।
কিন্তু তারপরেও একদম নিম্ন পর্যায়ের অবস্থান থেকে বুঝতে হলে বোঝা যায় যে শুধুমাত্র টিকে থাকার জন্যও মানুষ সময়কে ধারণ করতে পারে।যেখানে সৃজনশীলতার ছিঁটেফোঁটাও পাওয়া যাবে না এবং তখনও এই উদ্দেশ্যে অন্যদের মননশীল সময়কে কেউ কেউ ব্যবহার করার চেষ্টাও করতে পারে। যেহেতু জন্মগতভাবেই সম্ভবত মানুষের ভিতর একটি লিডারশিপ মানসিকতা রয়েছে।তাই পথ প্রদর্শকের ভূমিকায়(?) তাই অন্যদের সময় নিয়ে শুধু নিজ স্বার্থে কেউ ব্যবহার করার একটি প্রবণতা সুপ্ত হলেও সমাজে থাকতে পারে। তাই মানুষ শুধুমাত্র টিকে থাকা অথবা কেবল স্বার্থগুলো টিকিয়ে রাখার জন্যও সময়কে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে (বারংবার?)। এইসব প্রবনতা অতীতেও ছিলো এবং বর্তমান যুগেও এর অজস্র প্রমাণ রয়েছে। এ পর্যায়ে সময়ের ব্যবচ্ছেদ যত না জরুরী তার থেকেও অনেক বেশি জরুরি হয়ে যায় মানুষের বিচার বিশ্লেষণ করার ইচ্ছা, সুস্থ মানসিকতা এবং সময়ের শুদ্ধতার জন্যও হলেও অতঃপর কিছুটা বোঝা পড়া করা কিংবা সময়ের মূল্যায়নের দক্ষতাকে আরো বাড়িয়ে এভাবে যুক্তিতে নিজেদের সত্য ও প্রকৃত অবস্থানটি নির্ণয় করার সামর্থ্য।
যদিও বর্তমান যুগে শুধুমাত্র ব্যক্তির টিকে থাকার জন্য সময়কে ব্যবহার করার আর তেমন প্রয়োজন হয় না (তাহলে?)। কারণ টিকে থাকার মানও যেমন বাড়ছে একদিকে তেমনি টিকবার (Tick?) মত নানান উপাদান আমাদের চারপাশে এমনিতেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে; ঠিক যেন ছড়িয়ে থাকা মনি মুক্তার মত মানুষ অথবা (প্রাকৃতিক?) সম্পদের পাহাড়ের মত একটি ভূপ্রকৃতিক অবস্থা..। যখন থেকে মানুষের টেকসই মনটি বস্তুবাদী মনে পরিবর্তিত হয় এবং কৃষিজীবী সমাজ ব্যবস্থার দিকে উত্তরণ লাভ করা শুরু করেছিলো মানুষেরা তখন থেকেই মানুষের টিকে থাকার অবস্থানটিরও ব্যাপক ভাবে পরিবর্তন হওয়া শুরু হয়। তার কারণ মানুষ যখন থেকে বস্তুবাদের দিকে ঝুকেছে তখন থেকেই তার উত্তরণ ঘটেছে ফেঁসে যাওয়ার থেকে বেঁচে যাওয়ার(?) দিকে এবং ততদিনে অনেকেই দ্বিতীয় (Secondary!!) পর্যায়ের বস্তুবাদের প্রয়োজনীয়তাও (কিসে?) বুঝতে শিখে গেছে। এর নামই হলো দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ কিংবা (Dialectic Materialism) ‘’ডায়ালেক্টিক ম্যাটেরিয়ালিজম’’।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন